করলা, ডায়বেটিস সহ অনেক রোগের মহাঔষধ !!
করলা, ডায়বেটিস সহ অনেক রোগের মহাঔষধ
করলা
স্বাদে তিতা হলেও স্বাস্থ্যের পক্ষে
খুবই উপকারি । ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন
রোগে করলার ভেষজ গুণ বেশি । জ্বর ও শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে সে ক্ষেত্রে করলা ভালো পথ্য । তা ছাড়া করলার তরকারি বায়ুবৃদ্ধিতে, বাতে,
লিভারে ও প্লীহার রোগে এবং ত্বকের অসুখে উপকার দেয়। নিয়মিত খেলে এটি জ্বর, হাম ও বসন্ত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। করলা এ উচ্ছে আকারে বড় ও ছোট হলেও গুণের দিক থেকে একই। তাই ভেষজ হিসেবে ব্যবহারের কথা উভয়ের ক্ষেত্রে একসাথে দেয়া হলো ।
করলা
চর্মরোগ : করলা
পাতার রস মালিশ করলে চর্মরোগ সারে। তা ছাড়া এ রস শুকনো ত্বকের জন্য উপকারি । শিকড় পিষে চুলকানি ও ফুসকুঁড়িতে লাগলে তা সারে ।
আগুনে পোড়া : পোড়া ঘায়ে করলা পাতার রস লাগালে তা সারে।
রক্তদুষ্টি : করলার রস খেলে রক্তের দূষিত বর্জ্য বের হয়ে যায় ।
আগুনে পোড়া : পোড়া ঘায়ে করলা পাতার রস লাগালে তা সারে।
রক্তদুষ্টি : করলার রস খেলে রক্তের দূষিত বর্জ্য বের হয়ে যায় ।
অগ্নিমান্দ্য : বীজ বাদ দিয়ে পুরো শাঁসের রস ছেঁকে একটু গরম করে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খেলে অগ্নিমান্দ্য রোগ সেরে যায় ।
বাতরক্ত :- এ
ক্ষেত্রে চার চা-চামচ করলা বা উচ্ছে পাতার রস একটু গরম করে সেই সাথে এক-দেড় চা চামচ বিশুদ্ধ গাওয়া ঘি মিশিয়ে ভাতের সাথে খেতে হয় ।
পিত্ত শ্লেষ্মাজনিত রোগ : অনেক সময়
ম্যালেরিয়া জ্বরেও পিত্ত শ্লেষ্মার বিকার হয়। এর প্রধান উপসর্গ হলো, শরীর কামড়ানি, পিপাসা ও বমি; এ ক্ষেত্রে উচ্ছে বা করলার পাতার রস এক চা চামচ একটু গরম করে অথবা , গরম পানির সাথে মিশিয়ে সারা দিনে ২-৩ বার করে খেলে জ্বরের উপসর্গগুলো চলে যাবে ও জ্বরের প্রকোপও কমে যাবে ।
গুঁড়ো কৃমি
এ ক্ষেত্রে উচ্ছে বা করলার পাতার রস বয়স্ক হলে ১-২ চা চামচ এবং শিশু হলে আধা চা চামচ সকালে ও বিকেলে অল্প পানি মিশিয়ে খেতে হয় ।
প্লীহা রোগের উপক্রম হওয়া : এ
রোগের লক্ষণ হলো বিকেলে চোখ-মুখ জ্বালা করা, নাক-মুখ দিয়ে গরম নিঃশ্বাস-বের হওয়া, মুখে । নোনা স্বাদ ও ভাজাপোড়া জিনিসে রুচি বেশি এ ক্ষেত্রে বুঝতে হবে, রক্তবহ স্রোত দূষিত হচ্ছে এবং এর আধার প্লীহা বিকারগ্রস্থ হচ্ছে ।
এ সময় করলা বা উচ্ছে পাতার রস দুই চা চামচ একটু গরম করে সিকি কাপ পানিতে মিশিয়ে দিনে দু-তিন বার খেতে হয় । এভাবে পাঁচ-ছয় দিন খেলে অসুবিধাগুলো আস্তে
আস্তে চলে যাবে ।
বাত : পিত্ত
শ্লেষ্মাজনিত এ
বাত রোগের লক্ষণ হলো অমাবস্যা, পূর্ণিমা এবং একাদশী এলে হাত-পা-কোমর, সারা শরীরে ব্যথা যন্ত্রণা হয়; ব্যথা নিবারক বড়ি খেয়ে চলাফেরা করতে হয়; শীতকাল এলে কথাই নেই, তবে গরম বেশি পড়লে ব্যথা-বেদনা ও যন্ত্রণা একটু কম হয় । এ ক্ষেত্রে করলা বা উচ্ছে পাতার রস ৩ চা চামচ গরম করে অল্প পানিতে মিশিয়ে দিনে ২ বার করে খেলে এ অসুবিধা চলে যায় ।
অরুচি রোগ : বৈদিক
শাস্ত্র মতে, পিত্ত শ্লেষ্মার বিকার না হলে অরুচি রোগ হয় না। এ ক্ষেত্রে এক চা চামচ করে ফলের রস সকাল ও বিকেলে খেলে দোষটা চলে যায় ।
এলার্জি : এ
ক্ষেত্রে ফলের রস ২ চা চামচ করে দিনে ২ বেলা খেতে হয় ।
দুষ্ট ক্ষত : যে
ঘায়ে রস গড়ায় কিছুতেই শুকাতে চায় না এতে গাছ পুরোটা শুকিয়ে গুঁড়ো করে ঘায়ের ওপর ছিটিয়ে দিলে এবং গাছ সিদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে থাকলে কয়েক দিনেই তা শুকিয়ে যাবে ।
আধকপালে মাথাব্যথা : পাতার
রস রগড়ে নিয়ে একটু ন্যাকড়ায় পুরে যে দিকে যন্ত্রণা হচ্ছে সে নাকে রসটা ফোঁটায় ফেলে টানলে কয়েক মিনিটেই ব্যথা সেরে যায় ।
ভিটামিনের অভাব : পাকা
করলা বা উচ্ছের বীজ শুকিয়ে রেখে প্রতিদিন প্রায় ১ চা চামচ (৩/৪ গ্রাম) মাখনের মতো বেটে তাতে ৭/৮ চা চামচ পানি মিশিয়ে চা ছাঁকনিতে ছেঁকে সে পানি প্রতিদিন একবার করে খেতে হয়। তাতে এ অভাব পূরণ হবে । এটি পুরনো কালের ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ।
শিশুদের বমি : তিনটি
করলা বিচি ও তিনটি গোলমরিচের গুঁড়ো সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে শিশুর বমি বন্ধ হয় ।
মূত্রকৃচ্ছ্রতা (প্রস্রাব বন্ধ হওয়া) :
১০
চা চামচ করলা পাতার রস একটু হিংসহ খেলে এ রোগ সারে ।
অর্শ্ব : করলার পাতা বা ফলের রস এক চা চামচ অল্প চিনিসহ খেলে অর্শ্ব ও তা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয় ।
চর্মরোগ : করলা পাতার রস মালিশ করলে চর্মরোগ সারে। তা ছাড়া এ রস শুকনো ত্বকের জন্য উপকারি । শিকড় পিষে চুলকানি ও ফুসকুঁড়িতে লাগলে তা সারে ।
আগুনে পোড়া : পোড়া ঘায়ে করলা পাতার রস লাগালে তা সারে।
রক্তদুষ্টি : করলার রস খেলে রক্তের দূষিত বর্জ্য বের হয়ে যায় ।
ডায়াবেটিস
:
ক. প্রতিদিন
সকালে খালি পেটে নিয়মিত করলার রস খেলে ও খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম মেনে চললে এ রোগ সারে ।
খ. তেতো বের না করে তরকারি হিসেবে ভাজি, ভর্তা হিসেবেও খেলে রোগ সারে ।
খ. তেতো বের না করে তরকারি হিসেবে ভাজি, ভর্তা হিসেবেও খেলে রোগ সারে ।
গ. কচি করলা টুকরো করে কেটে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে মিহি করে পিষে নিতে হবে। এ গুঁড়ো সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত দুই চা চামচ করে চার মাস খেলে এ রোগ নিশ্চয় সারবে । তবে নিয়মকানুন মানতেই হবে । এতে প্রস্রাবের সাথে শর্করা বের হওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে ।
ঘ. একটি করে শসা, টমেটো ও করলা নিয়ে রস বের করে সকালে খালি পেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় ।


No comments